এই উৎসব মরশুমে/ঋতুতে ,আপনার নতুন বাড়ির জন্য গৃহ প্রবেশ টিপস্


কোনো সম্পত্তিতে বিনিয়োগের সময়, বাড়ির মালিকরা সাধারণত শুভ দিন সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত থাকেন এবং বাড়িতে ঢোকার আগে, একটি গৃহপ্রবেশ সম্পাদন করেন। আমরা এই অনুষ্ঠানের তাৎপর্য গুলো পরীক্ষা করবো এবং পয়েন্টগুলো বিবেচনা করবো

যখন একটি সম্পত্তি কেনা হয় বা একটি নতুন বাড়িতে শিফ্ট/স্থানান্তর করা হয়, তখন ভারতীয়রা বিশেষত  শুভ মুহরত সম্পর্কে অবগত থাকেন। তারা বিশ্বাস করে যে একটি শুভদিনে গৃহ প্রবেশের অনুষ্ঠান পালন করলে, এটি তাদের জন্য সৌভাগ্য আনবে।

যখন কোন ব্যক্তি প্রথমবার একটি নতুন বাড়িতে প্রবেশ করে, তখন গৃহ প্রবেশের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মুম্বাইয়ের জয়শ্রী ধামানি, একজন বাস্তু শাস্ত্র এবং জ্যোতিষবিদ্যা বিশেষজ্ঞ বলেন, “শুধু মালিকের জন্যই নয়, সমগ্র পরিবারের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।” বাস্তু অনুযায়ী, একটি ঘর পাঁচটি উপাদান দ্বারা গঠিত হয় – সূর্য, পৃথিবী, জল, আগুন ও বায়ু এবং একটি ঘরে এই উপাদানগুলির সঠিক সংমিশ্রণ, সুখ, সুস্বাস্থ্য এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।

ধামানি আরো বললেন, “এটা বিশ্বাস করা হয় যে, একটি শুভ সময়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করলে , জীবন সহজ হয়  এবং নতুন বাড়িতে চলে আসার পরে, পরিবারে খুব কম বিবাদ হয়। এমন মুহুর্তের জন্য সবচেয়ে উপযোগী যে দিনগুলি, সেগুলি হল বসন্ত পঞ্চমী, অক্ষয় তৃতীয়া, গুড়ি পরওয়া, দশেরা (যেটি বিজয়াদশমী নামেও পরিচিত), আবার অন্য দিকে কিছু দিন যেমন, উত্তরায়ণ, হোলি, আধিকমাস এবং শ্রাদ্ধ পক্ষ এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

দশেরাতে বাড়ির অনুষ্ঠান করতে কোন শুভ মূহুর্তেরও দরকার হয় না ,কারন এই দিনের প্রতিটি মুহুর্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। গৃহ প্রবেশের পূর্বে সাধারনত একটি কলস পূজা করা হয়|

এই অনুষ্ঠানের জন্য, একটি তামার পাত্র জল দিয়ে ভরা হয় এবং এতে নয় ধরনের শস্য ও একটি মুদ্রা রাখা হয়। একটি নারকেল পাত্রটির উপর রাখা হয় এবং পুরোহিত দ্বারা মন্ত্র উচ্চারনের সাথে সাথে, একজন এটি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে।

 

 

গৃহ প্রবেশ অনুষ্ঠানের সময় কি করবেন আর কি করবেন না

গৃহপ্রবেশ তখন করা উচিত, শুধুমাত্র যখন নতুন বাড়িটি পরিবারের  স্থানান্তর/শিফ্ট করা এবং বাস করার জন্য প্রস্তুত থাকে I বাস্তু প্লাসের একজন বাস্তু কনসালটেন্ট নীতিন পরমার  বলেন, “বাড়িটি সম্পুর্ণভাবে তৈরী হওয়া উচিত। এতে সদ্য রং করা হয়েছে, এমন থাকা উচিত এবং ছাদটি তৈরী থাকা উচিত (যদি এটি একটি স্বতন্ত্র ঘর হয় )। দরজা, জানালা এবং অন্যান্য জিনিসপত্রও সম্পূর্ণ তৈরী হওয়া উচিত “।

“বাস্তু পুরুষ এবং অন্যান্য দেবতার পূজা করা হয়।

পরমার পরামর্শ দেন, “মুখ্য দ্বার, যা বাড়ির মধ্যে সমৃদ্ধি এবং ভাল তরঙ্গের জন্য প্রবেশ বিন্দু,  শুভ চিহ্ন যেমন, স্বস্তিকা দিয়ে সাজানো উচিত এবং দোরগোড়ায় লক্ষ্মীর পা আঁকা উচিত । একটি তোরন (সংস্কৃত শব্দ ‘তোরণা ‘ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ পবিত্র প্রবেশদ্বার), যা তাজা আম পাতা এবং গাঁদা ফুল দিয়ে তৈরি হয় , দরজার উপর ঝোলানো উচিত। বাড়ির মন্দির উত্তর-পূর্ব দিকে থাকা উচিত এবং গৃহপ্রবেশের দিন সেটিকে স্হাপন করা উচিত “।

বাড়ির মালিকের উপর নির্ভর করে গৃহ প্রবেশের অনুষ্ঠান সহজ বা বিস্তৃত হতে পারে। সাধারণত, স্থানটিকে শুদ্ধ করার জন্য এবং নেতিবাচক/ নেগেটিভ শক্তিকে স্থানটির থেকে দূর করার জন্য, একটি যজ্ঞ করা হয়। সাধারনত একটি গণেশ পূজা, নবগ্রহের শান্তি, যার মানে নয়টি গ্রহের পূজা  এবং একটি বাস্তু পূজা করা হয়ে থাকে । একজন ব্যক্তি পুরোহিত এবং পরিবার এবং ওই দিনে আমন্ত্রিত বন্ধুবান্ধবদের খাদ্য পরিবেশনও করে। একবার গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান হয়ে গেলে , মালিকরা নতুন ঘরের মধ্যে স্থানান্তর করতে পারেন।

 

আপনার নতুন বাড়ির গৃহ প্রবেশের জন্য টিপস্

  • সর্বদা একটি শুভদিনে গৃহ প্রবেশ  করবেন। মূর্তিগুলি বাড়ির পূর্ব দিকে মুখ করে স্থাপন করা উচিত।
  • পুজার আগে পুরো ঘর পরিষ্কার করা উচিত। জায়গাটি পরিষ্কার এবং শুদ্ধ করার জন্য লবণ দিয়ে মেঝে মোছা উচিত।
  • বাড়িতে প্রবেশ করার সময়, সর্বদা আপনার ডান পা প্রথমে রাখুন।
  • মুখ্য দরজাটি সজ্জিত করা উচিত, কারণ এটিকে সিংহ দ্বারও বলা হয় এবং এটি বাস্তু পুরুষের মুখমন্ডল। আম পাতা এবং তাজা ফুল দিয়ে দরজা সাজানো উচিত।
  • মেঝে চালের গুড়ো বা উজ্জ্বল রং দিয়ে  রঙ্গোলি এঁকে সাজান। মেঝেতে রঙ্গোলি দিয়ে লক্ষ্মী দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয় বলে মনে করা হয়।
  • একটি যজ্ঞ, ( তৃণ এবং কাঠ আগুনে পোড়ানো) স্থানটিকে শুদ্ধ করে এবং চারপাশ পরিষ্কার করে বলে মনে করা হয়।

 

Was this article useful?
  • 😃 (0)
  • 😐 (0)
  • 😔 (0)

Comments

comments