আপনার সম্পত্তি দখল নিতে দেরি হচ্ছে কি? তাহলে আপনি কি করতে পারেন


একটি বাড়ির ক্রেতা, যিনি তার সম্পত্তি সঠিক সময়ে অধিগ্রহণে ব্যর্থ হন, তিনি ভারতের সিভিল, ফৌজদারি এবং উপভোক্তা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন বিধান অবলম্বন করে, নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন

একটি সম্পত্তি ক্রেতা, যিনি একটি বাড়ি কিনতে কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত অর্থ বিনিয়োগ করেছেন এবং সময়মত তার দখল নিতে পারেননি , তিনি যে শুধুমাত্র তার মাথার উপর ছাদ পেতে ব্যর্থ হয়েছেন তা নয়, তাছাড়া, গৃহ ঋণের মাসিক কিস্তির রূপে  এবং একটি ভাড়া বাড়ির জন্য অর্থ প্রদান রূপে টাকা হারিয়েছেন/ খরচ করেছেন। উপরন্তু, aক্রেতাকে বিচার পাবার জন্য দীর্ঘ মজুরী দিতে এবং ক্লান্তিকর আইনি যুদ্ধের আহ্বান করতে হতে পারে।

 

আইনি প্রতিকার

যদি বাড়ির দখল সময়মত করা না হয় , তাহলে একজন ক্রেতা নির্মাণকারীর কাছে, সুদ অথবা ক্ষতির জন্য পরিশোধিত অর্থের ফেরত পাওয়ার  দাবী করে নোটিশ পাঠাতে পারেনI অমিত হারিয়ানি, হারিয়ানি অ্যান্ড কোম্পানির মেনেজিং পার্টনার সুপারিশ করলেন, “ক্রেতা নির্মানকারীর বিরুদ্ধে উপভোক্তা সুরক্ষা ,৷৷৷৷ অ্যাক্ট, 1986 এর অধীনে সংজ্ঞায়িত ‘ পরিষেবার অভাবের’ জন্য  অভিযোগও দাখিল করতে পারেন”।

হারিয়ানি ব্যাখ্যা করলেন ,” ফ্ল্যাট ক্রেতাকে, সম্পত্তিটির মূল্যের বা ক্ষতিগ্রস্তের পরিমাণের উপর নির্ভর করে, এই আইনের অধীনে উপযুক্ত ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি ফোরামে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে হবে। 20 লাখ টাকার উপরের কোনও বিতর্ক রাজ্য কমিশনের কাছে সরাসরি জমা দিতে পারেন এবং 1 কোটি টাকার বেশী  বিতর্কটিকে নিউ দিল্লিতে জাতীয় কমিশনের কাছে জমা দিতে পারেন। 20 লাখ টাকার নিচে কোনো বিতর্ক হলে অভিযোগ ডিস্ট্রিক্ট কমিশনের কাছে জমা দেওয়া যায়” I

সম্প্রতি, ইউনিটেককে, তার ফ্ল্যাটগুলি দখল দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব করায়,জাতীয় ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন দ্বারা 3 কোটি টাকা দণ্ডিত করা হয়েছিল। আরেকটি ক্ষেত্রে, গ্রেটার নয়ডায়, 300 টির বেশি ফ্ল্যাট ক্রেতারা,দখল দিতে দেরি করার জন্য, একজন বিল্ডারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। কয়েক মাস আগে, মুম্বাইয়ের একটি বিকাশকারীকে দখলদারীতে বিলম্বের জন্য ক্রেতাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে একজন ক্রেতা ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্ট,1872 এর অধীনে, ক্ষতিপূরণের জন্য বা নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করার জন্য, উপযুক্ত ক্ষেত্রের আদালতে একটি মামলা করতে পারেন। যদি নির্মাণকারী  জালিয়াতিতে জড়িত থাকে-উদাহরণস্বরূপ, যদি নির্মাণকারী শুরু থেকেই জানেন যে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে সক্ষম হবেন না এবং ক্রেতাকে কিছু মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে ফ্ল্যাট বুক করতে প্ররোচিত করেছেন, তবে সিভিল ও ফৌজদারি কার্যধারা প্রবর্তিত হতে পারে

 

অভিযোগকারী আইনি গতিপথের মাধ্যমে কোন ধরণের ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন

হারিয়ানির মতে, ক্রেতা / অভিযোগকারী অন্যান্য সবকিছুর সাথে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলিও পেতে  পারেনঃ

  1. ক্রেতা সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী বিকল্প বাসস্থান কিনতে প্রয়োজনীয় অর্থ দাবি করতে পারেন। এছাড়াও ক্রেতা বিল্ডারকে দেওয়া অর্থ দাবি করতে পারেন।
  1. শেষ তারিখ পর্যন্ত তৈরি পেমেন্ট বা প্রদেয় অর্থের উপর সুদ দাবি করতে পারেন।
  1. যদি ক্রেতা / অভিযোগকারী ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সম্পত্তিটি কিনে থাকেন, তাহলে তিনি ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন-এ ক্ষতিপুরনের জন্য অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
  1. যদি ক্রেতা / অভিযোগকারী কয়েক মাস বা বছরের মধ্যে ফ্ল্যাট অধিগ্রহণে নিশ্চিত হন, তবে তিনি যেটি ভাড়া হিসাবে বিকল্প আবাসে যে অর্থ ব্যয় করছেন, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। যদি তিনি প্রথমবারের  ক্রেতা হন ,অথবা যদি তার বাড়িটি পুনর্নিমান হতে থাকে, তবে এটি প্রযোজ্য হবে।
  1. ক্রেতা  সুযোগ হারানোর জন্য ক্ষতি দাবি করতে পারেন, যে সুযোগে তিনি তার অর্থ অন্য কোথাও বিনিয়োগ করতে পারতেন ।

কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে, ক্রেতাদের  ডিসক্লেইমার সহ সমস্ত পয়েন্ট পড়তে হবে এবং নির্মাণকারীর আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

 

Was this article useful?
  • 😃 (0)
  • 😐 (0)
  • 😔 (0)

Comments

comments