কিভাবে জিএসটি এবং টিডিএস ভাড়ার আয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে?


বর্তমানে ভাড়া সম্পত্তি কিছু বিশিষ্ট ক্ষেত্রে পরিষেবা করের অধীন। আমরা এখানে দেখবো কিভাবে প্রস্তাবিত পণ্য ও পরিষেবা কর এবং উৎসে কর হ্রাসের জন্য বিধান একজনের ভাড়া আয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে

আয়কর আইনের অধীনে, যা দেশের একটি সরাসরি কর আইন, একটি রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ থেকে ভাড়ার আয়, ‘বাড়ির সম্পত্তি থেকে আয়’ শিরোনামের অধীনে আসে। যে সম্পত্তিগুলি ভাড়া দেওয়া হয়েছে, সেগুলিও বর্তমানে পরিষেবা করের পরোক্ষ করারোপনের আওতাধীন। সম্পত্তির ইজারাদারের থেকেও টিডিএস (উৎসে কর কর্তন) কাটতে হবে, যদিও প্রস্তাবিত জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা ট্যাক্স) ভাড়া আয়ের উপর কর গণনাকেও প্রভাবিত করবে।

 

বিদ্যমান পরিষেবা কর আইন

বর্তমানে, যদি বাড়িওয়ালার  সমস্ত সম্পত্তি থেকে ভাড়ার আয় সহ মোট করযোগ্য সেবা, প্রতি বছর 10 লক্ষ টাকার মূল সীমা অতিক্রম করে, তবে তাঁকে একটি সার্ভিস ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সুতরাং, ভারতে যতদিন আপনার মালিকানাধীন সব সম্পত্তি থেকে আপনার ভাড়ার আয় 10 লক্ষ টাকা অতিক্রম না করে , আপনি মোট পরিষেবা করের আওতার বাইরে থাকবেন ।

বর্তমান আইন বসবাসের উদ্দেশ্যে ভাড়া দেওয়া আবাসিক গৃহ সম্পত্তি থেকে গৃহীত ভাড়াকে পরিষেবা করারোপন থেকে অব্যহতি দিয়েছে। শুধু বাণিজ্যিক সম্পত্তিগুলি বর্তমানে পরিষেবা কর শুল্ক আকৃষ্ট করে। এছাড়া, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোন আবাসিক সম্পত্তিও পরিষেবা করারোপনকে আকৃষ্ট করবে। শুধুমাত্র 10 লক্ষ টাকার সীমা, করযোগ্য সেবাগুলির জন্য প্রযোজ্য। সুতরাং, যদি আপনার আবাসিক সম্পত্তির ভাড়া 10 লক্ষ টাকা অতিক্রম করে, তাহলেও আপনার পরিষেবা কর দায় থাকবে না, যতদিন বাণিজ্যিক সম্পত্তি থেকে আপনার মোট ভাড়া প্রতি বছরে 10 লাখ টাকা অতিক্রম না করে । বছরের শুরুতে 10 লাখ টাকার সীমা পুন:স্থাপন হয়ে যায়। বর্তমানে, বাণিজ্যিক সম্পত্তির ভাড়ার 15 শতাংশ হারে পরিষেবা কর সংগ্রহ করা হয়।

 

জিএসটি-র অধীনে প্রস্তাবিত নিয়মাবলী

জিএসটি পদ্ধতির অধীনে, পণ্য এবং সেবার উপর কর ধার্য্য করার সাথে,সেবা এবং পণ্যের পৃথক করশুল্ক সম্পর্কে বিভ্রান্তি দূর হয়েছে।

বর্তমান পরিষেবা কর ব্যবস্থার আওতায়, জিএসটি-র প্রযোজ্যতার প্রারম্ভিক সীমা 10 লক্ষ টাকা থেকে 20 লাখ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাই, জিএসটি  2017 সালের 1 জুলাই প্রস্তাবিত তারিখ থেকে কার্যকর হওয়ার পর, পরিষেবা কর ব্যবস্থার আওতার় অধীনের বহু বাড়িওয়ালা, মোট পরোক্ষ করারোপন থেকে বেরিয়ে আসবে।

এটা লক্ষ্য করা হতে পারে যে জিএসটির অধীনে মোট 20 লক্ষ টাকার সীমা গণনা করার ফলে, অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য এবং সরবরাহকৃত পরিষেবাগুলি সহ সমস্ত করযোগ্যকে এই গণনার আওতায় নেওয়া হবে। অতএব, পরিষেবা কর ব্যবস্থা, যেখানে এটি কেবলমাত্র করযোগ্য সেবার অধীনে রয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য আপনি জিএসটি-র অধীনে মৌলিক প্রান্তিকতা অতিক্রম করেছেন কিনা তা বিবেচনা করা হয়, ভারতে সরবরাহকৃত সমস্ত পরিষেবা এবং পণ্যগুলি, সেই সাথে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মূল্য, করযোগ্যতায় 20 লাখ টাকার  সীমা অতিক্রম করেছে কিনা তা বিবেচনা করা হয়। বাণিজ্যিক সম্পত্তির ভাড়া দেওয়ার উপরে , জিএসটি 18 শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

 

বাণিজ্যিক সম্পত্তিগুলির ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে, জিএসটি-র অধীনে আরো একটি প্রধান করের ইঙ্গিত আছে। সংসদ জিএসটি-র অধীনে পরিষেবা কর পদ্ধতি  থেকে ‘রিভার্স চার্জ মেকানিজম’ এর ধারণাটি ধার করেছে। যাইহোক, পরিষেবা কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে , যেখানে শুধুমাত্র পরিষেবাগুলির ক্ষেত্রে বিপরীত মুল্য ব্যবস্থা প্রযোজ্য হয় এবং পণ্য বিক্রি বা উৎপাদন পর্যন্ত তা বাড়ানো হয় না, জিএসটি পদ্ধতির অধীনে পণ্য এবং পরিষেবার জন্য একই পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়। যে ব্যক্তি জিএসটি-র অধীনে নিবন্ধিত/রেজিস্টার্ড হন, যিনি জিএসটি-র অধীনে নিবন্ধিত না হওয়া ব্যক্তির কাছ থেকে পণ্য বা সেবার সরবরাহ পেয়ে থাকেন, তাকে রিভার্স চার্জ ব্যবস্থার অধীনে জিএসটি প্রদান করতে হবে। পরিষেবা কর ব্যবস্থার অধীনে , ভাড়াটে দ্বারা দেওয়া ভাড়ার ক্ষেত্রে, রিভার্স মেকানিসমের কোন বিধান নেই। প্রস্তাবিত জিএসটি-র বিধান অনুযায়ী, বৃদ্ধি হার এবং বিপরীত প্রক্রিয়ার অধীনস্ত শুল্কের কারণে, কোনো বাণিজ্যিক প্রাঙ্গন ভাড়া নিতে গেলে অবশেষে তা ব্যয়বহুল হয়ে যাবে।

 

ভাড়াটে সম্পত্তির জন্য আয়করের উপর কর ছাড়ের জন্য বিধান

পরিষেবা কর এবং জিএসটি-র ক্ষেত্রে, যদি বাড়িওয়ালা/ সম্পত্তির মালিক এই আইনের অধীনে নিবন্ধিত হন, তবে তিনিই ধার্য্য ভাড়ার উপরে ভাড়াটের কাছ থেকে পরিষেবা কর / জিএসটি সংগ্রহ করবেন। অনুরূপভাবে, আয়কর আইন অনুযায়ী, সম্পত্তির জন্য ভাড়া বছরে 1.80 লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেলে, ভাড়াটে উৎসের উপর 10 শতাংশ হারে আয়কর হ্রাস করবেন। 1.80 লক্ষ টাকার সীমা, বাড়িওয়ালার উপর প্রযোজ্য এবং ভাড়া দেওয়া সম্পত্তির উপর নয়। এই টিডিএস বিধানগুলি আবাসিক, সেইসাথে বাণিজ্যিক সম্পত্তিগুলির জন্য প্রযোজ্য।  যদি সম্পত্তির ভাড়াটের তার হিসাব, আয়কর আইনের ধারা 44 AB এর অধীনে নিরীক্ষণের প্রয়োজন হয়, একমাত্র তবেই এই বিধান প্রযোজ্য হবে।

ভাড়ার উপর উৎসের কর হ্রাসের জন্য, 2017 সালের বাজেটে আরো একটি বিধান   প্রবর্তন করা হয়েছে, যা কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও অবিভক্ত হিন্দু পরিবারের জন্য প্রযোজ্য, যাদের উপরোক্ত আলোচনা অনুযায়ী হিসাবগুলি নিরীক্ষণ করানোর প্রয়োজন হয়না। এই ধরণের স্বতন্ত্র ব্যক্তি ও অবিভক্ত হিন্দু পরিবারকে অবশ্যই বছরের শেষে অথবা ভাড়ার সময়ের শেষে, উৎসে কর হ্রাস করতে হবে,  বছর শেষ হবার আগে ভাড়াটেদের উচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে , যদি সম্পুর্ণ বছরের দেওয়া ভাড়ার মোট মূল্য প্রতি মাসে 50,000 টাকা অতিক্রম করে , সেক্ষেত্রে বছরে দেওয়া সম্পুর্ণ ভাড়ার 5 শতাংশ ছাড় দিতে হবে।

(লেখক হলেন 35 বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন কর এবং গৃহ অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ)

 

Was this article useful?
  • 😃 (1)
  • 😐 (0)
  • 😔 (0)

Comments

comments