কোনও আইনজীবী ছাড়াই আপনার ফ্ল্যাট কেনার ডকুমেন্ট যাচাই করার টিপস


আপনি পেশাদারী সহায়তা ছাড়া আপনার ক্রয় নথির সত্যতা যাচাই করতে পারেন। এখানে বিন্দুওয়ালা লাইনের উপর সই করার পূর্বে নিম্নলিখিত পয়েন্ট গুলি মনে রাখা প্রয়োজন

আপনার অধিকার সম্পর্কে অধ্যবসায় এবং সচেতনতা অবশ্যই ডেভেলপারদের  বিবেকহীন কর্মের বিরুদ্ধে আপনাকে রক্ষা করবে। একটি শিল্পে যেখানে এখনও স্বচ্ছতার অভাব আছে, তার কোন সম্পত্তি কেনার আগে স্বচক্ষে সব নথি পরীক্ষা করা ভাল। প্রথম এবং সর্বাগ্রে, একটি বিক্রয় চুক্তি খসড়া চরম যত্ন সহকারে করা উচিত। একজন সম্পত্তি ক্রেতার  সম্পূর্ণরূপে এটির বিষয়বস্তুকে বুঝতে হবে; যদি প্রয়োজন হয় একটি আইনজীবী নিয়োগ করা এবং ডেভেলপার যে সমস্ত জিনিস দেবার কথা দিয়েছে তার একটি পরিষ্কার নোট তৈরি করা জরুরি।

জেএলএল ইন্ডিয়া’র চেয়ারম্যান ও দেশ প্রধান আনুজ পুরি সতর্ক করেন যে, “বিকাশকারীর বিক্রয় দলগুলি একজন ক্রেতাকে সাধারনত একটি রেডিমেড চুক্তিপত্র পরিবেশন করে থাকে, এবং একজন ক্রেতাকে অবশ্যই এটি নিশ্চিত করতে হবে যে এটি সমস্ত প্রাসঙ্গিক বিষয় ধারণ করে কিনা।” তিনি আরো বলেন, “যদি তা না হয় তবে ক্রেতা সম্পূর্ণরূপে, অনুপস্থিত বিবরণগুলিকে এর অন্তর্ভুক্ত করতে এবং সম্ভাব্য ধূসর এলাকাগুলি  স্পষ্ট করতে, বলার অধিকারী। চূড়ান্ত চুক্তির একটি অনুলিপি যে কোনো পরিস্থিতিতেই অপরিবর্তিত রাখা উচিত, কারণ চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একটি আইনি পদক্ষেপের প্রাথমিক প্রমাণ হিসাবে এটি পরিবেশন করা হয় “।

 

ক্রয় নথি যাচাই করার সময় এগুলি আপনার নজর রাখা দরকার:

 

1. ব্যক্তিগত বিবরণ

চুক্তিটিতে বিক্রেতার সম্পূর্ণ বিবরণ নথিভুক্ত থাকতে হবে। যার মধ্যে পিতার নাম, ঠিকানা, প্যান নম্বর এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে সম্পত্তির অবস্থান  এবং পৌরসভা, তহসিল (প্রশাসনিক বিভাগ) বা সংগ্রাহকের ভূমি রেকর্ড নম্বরের সঠিক বিবরণ অবশ্যই প্রদান করতে হবে। চুক্তিতে, ক্রেতা এবং বিক্রেতা দুজনের পক্ষ থেকেই, দুজন ব্যক্তি দ্বারা সাক্ষী থাকা উচিত।

 

2. শিরোনাম নথিপত্র

পুরি ব্যাখ্যা করেন, “বিক্রেতা চুক্তিপত্রে শিরোনাম নথির সত্যতা এবং চুক্তির মালিকানা হস্তান্তর নিশ্চিত করবে।” “তিনি আরে স্পষ্ট করে বলেন যে হস্তান্তর এবং দখলের উপর হস্তান্তর, একটি আইনগত ও সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃত পদ্ধতিতে ঘটছে। চুক্তিটি অবশ্যই এই সত্যতা প্রতিফলিত করবে যে, সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্ত বকেয়া, হস্তান্তরের তারিখের মধ্যে, দিয়ে দেওয়া  হয়েছে। “অধিকন্তু, চুক্তিটি কোনো শিরোনাম সংক্রান্ত বিরোধ এবং সম্পত্তির দখলের থেকে ক্রেতাকে সম্পুর্ণরকমভাবে নিরাপত্তা দেবে।”

 

3. অধিগ্রহণের তারিখ

হরিয়াণী এন্ড কোম্পানির সলিসিটর অনিরুদ্ধ হরিয়াণী জানান,”বিল্ডার থেকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে, একটি ফ্ল্যাট দখল করার তারিখ ক্রেতার  কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এটি সেই তারিখ যেদিন ক্রেতা ফ্ল্যাটটি অধিগ্রহণের অধিকার লাভ করে এবং চুক্তিতে নির্ধারিত তারিখে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য বিকাশকারীকে বাধ্য করে। যদি নির্ধারিত তারিখে দখল না দেওয়া  হয়, তাহলে ক্রেতা আদালতে অভিযোগ করার অধিকার রাখে।”

একটি চুক্তিতে ‘টাইম অফ এসেসন্স ‘ ধারা পার্টিকে বকেয়া বাধ্যবাধকতা সঞ্চালনে  চুক্তিগত সময়সীমা নিচে এনে দেয়।

 

4. অর্থ প্রদানের সময়সূচী

হারিয়ানি বিবরণ দেন ”যে ধারাটি অর্থ প্রদানের সময়সূচী নির্ধারণ করে, সেটি কতটা অর্থ প্রদান করতে হবে তার মোট পরিমাণ এবং যে সময়সীমার মধ্যে তা পরিশোধ করা হবে, তা নির্ধারিত করে” I হারিয়ানি নির্দেশিত করেন “যেসব ক্ষেত্রে কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হয়, সে ক্ষেত্রে পেমেন্টের সময়সূচীতে প্রতিটি কিস্তির বিশদ উল্লেখ থাকে । এটি ভবিষ্যতে উত্থাপিত যে কোন অস্পষ্টতা এড়াতে সাহায্য করে”।  চুক্তি পত্রে ক্রেতার সম্পূর্ণ অর্থ প্রদানের বিবরণ , এমনকি যদি কোন বন্ধকী থাকে তা সহ, প্রদান করতে হবে।

 

 

5. পরিসমাপ্তি

পরিসমাপ্তি ধারা হল পার্টির দ্বারা প্রত্যাশিত আচরন বিধি থেকে চ্যুতির ক্ষেত্রে তাদের উপর আরোপিত ফলাফল।  হয় যারা চুক্তিপত্রের নির্দেশ গুলি লঙ্ঘন করে । এক্ষেত্রে চুক্তির মধ্যে ‘ সুবিধার্থে অবসান ‘ ধারা থাকতে পারে, যেখানে যে কোনো পক্ষ চুক্তিটি বাতিল করতে পারে।

 

6. বিতর্কের সমাধান

বিতর্কের সমাধানের ধারাটি এমন পদ্ধতিতে রূপায়িত করে যার দ্বারা পার্টি তাদের বিরোধ সমাধান করতে পারে। এটি মামলার মাধ্যমে ব্যাপারটি নিষ্পত্তি করার বিকল্প ব্যবস্থা  । এর পাশাপাশি, বাণিজ্যিক চুক্তি সমাধানের জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছে ফয়সালা এবং মধ্যস্থতা।

 

7. সুযোগ-সুবিধা

সুযোগ-সুবিধা ধারা ক্রয়কারীকে তার অধিকৃত অতিরিক্ত সুবিধাদি সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে এবং  রক্ষণাবেক্ষণের খরচগুলির প্রতি সম্পূরক পরিমাণের উল্লেখ করে। যদি দাবীমত প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধার কোন ত্রুটি হয়, তবে ক্রেতা এটিকে চুক্তিটির লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচনা করতে পারেন ।

 

8. পেনাল্টি/শাস্তি

একটি শাস্তি ধারা ক্রয় চুক্তির মধ্যে  অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যেখানে বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয় থেকে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে পরিষ্কারভাবে মাইলস্টোন এবং শাস্তির উল্লেখ করা থাকবে।

অবশেষে, একটি আইনি ক্রয় চুক্তি নিবন্ধিত করা ক্রেতার দিক থেকে উপকারি হয়, কারণ এটি মালিকানা বা অবশেষে পুনর্বিক্রয়,যে কোনো ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে । একবার ক্রয় চুক্তি খসড়া এবং নিবন্ধিত/ রেজিস্টার্ড হবার পর কোন পরিবর্তন করা যাবে না । যদি কোন পরিবর্তন করতে হয়, তবে ক্রেতার  অনুমোদন প্রাপ্ত করা আবশ্যক এবং চুক্তিতে একটি সংযোজন করতে হবে।

 

Was this article useful?
  • 😃 (0)
  • 😐 (0)
  • 😔 (0)

Comments

comments